ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ , ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে অবৈধ ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৪০ একর ধানক্ষেত নষ্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-২৪ ২১:১২:১৯
রংপুরে অবৈধ ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৪০ একর ধানক্ষেত নষ্ট রংপুরে অবৈধ ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৪০ একর ধানক্ষেত নষ্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক
রংপুরের বদরগঞ্জে ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসে প্রায় ৪০ একর ধানের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের হাজীপুর এলাকায় জিবিএল ইটভাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অবৈধ ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ধানক্ষেতের পাশেই ইটভাটার ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসের কারণে ধানের গাছ হলদে হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে । ধানের শীষগুলো পুড়ে ও হলদে হয়ে যাচ্ছে। তারা আরো জানান, ভাটাগুলো থেকে নির্গত ধোঁয়া সরাসরি জমির ওপর পড়ায় ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে এবং অনেক কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

কৃষকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার কথা জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানান।

স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ভাটা মালিক সাবেক ইউপি সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা মাজেদ আলী। তার সঙ্গে কথা বলেছি কিন্তু তিনি আমাদের কথার কোনো তোয়াক্কা করছেন না। তার দাবি, ইটভাটার কারণে ধানক্ষেত নষ্ট হয়নি। এটা অন্য কোনো কারণে হয়েছে।

বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী মেম্বার বলেন, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মাজেদ আলীর জিবিএল ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাস এবং ধোঁয়ার কারণে এ এলাকার অনেক হিন্দুর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

হিন্দুরা ভাটা মালিকের ভয়ে কিছু বলতে পারছেন না। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন যারা সরকারবিরোধী কথা বলত তাদেরকেই বিভিন্ন মামলায় জড়াতেন মাজেদ মেম্বার। যাদের জমির ফসল নষ্ট হয়েছে তাদেরকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এ কারণে অনেকে ক্ষতি হওয়ার পরেও ভয়ে কোনো কথা বলছেন না।

এ বিষয়ে জিবিএল ইট ভাটার মালিক মাজেদ আলী মেম্বার বলেন, আমার ইটভাটায় এখনো আগুন রয়েছে। ইট ভাটার গ্যাসে তাদের ধানক্ষেত নষ্ট হয়নি। কৃষি অফিস থেকে উপসহকারী কর্মকর্তা এসেছিল তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা কিছু ধান গাছ পরীক্ষার জন্য নিয়ে গেছেন। যদি আমার ইট ভাটার গ্যাসের কারণে তাদের ধানক্ষেত নষ্ট হয়ে থাকে, তাহলে আমি তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে প্রস্তুত।

পরিবেশবিদরা বলছেন, নিয়ম না মেনে ইটভাটা পরিচালনার ফলে এমন ক্ষতি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে কৃষি ও পরিবেশের জন্য আরো বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিনা আফরোজ বলেন, ধানক্ষেত নষ্ট হওয়ার বিষয়ে জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছিল। ধান গাছগুলো পরীক্ষা করার পর বিষয়টি জানা যাবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : nafizhasan889900@gmail.com

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ